নিউজ

শেখ রাসেলকে নিয়ে উক্তি, কবিতা ও ছন্দ

আজকের নিবন্ধে শেখ রাসেলকে নিয়ে উক্তি এবং দারুণ কিছু কবিতা শেয়ার করা হবে। আপনারা যারা শেখ রাসেলকে নিয়ে দারুন দারুন উক্তি এবং কবিতা অনুসন্ধান করছেন তাদেরকে এই নিবন্ধে স্বাগত জানাই। দারুন সব কবিতা এবং শেখ রাসেল কে নিয়ে দারুন সব উক্তি নিয়েই আমাদের এ নিবন্ধটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পাঠ করার স্বনির্বন্ধ অনুরোধ রইলো।

১৯৬৪ সালের ১৮ই অক্টোবর। বঙ্গবন্ধুর ঘরে জন্মগ্রহণ করে ফুটফুটে এক ছেলে সন্তান। তৎকালীন নোবেল জয়ী বার্ট্রান্ড রাসেলের নাম অনুসারে বঙ্গবন্ধু তাঁর সর্বকনিষ্ঠ ছেলের নাম রাখেন শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর পাঁচ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ শেখ রাসেল ছিলেন চটপটে এবং সবার প্রিয় আদরের ছোট্ট সোনা। অল্প বয়সেই শেখ রাসেলের অনেক বিখ্যাত সব ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করার সুযোগ হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বেশ হেসে খেলেই দিন যাচ্ছিল শেখ রাসেলের।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট নারকীয় হত্যাকাণ্ডে পরিবারের অন্য সব সদস্যের সাথে শহীদ হন ছোট্ট শেখ রাসেল। মৃত্যু সময় শেখ রাসেলের বয়স হয়েছিল মাত্র ১০ বছর। ঘাতকের নির্মম গুলির আঘাতে নিমিষেই নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল শেখ রাসেলের কচি দেহটি। ছোট্ট শেখ রাসেলের জন্মদিন কে কেন্দ্র করে প্রতিবছর ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশে শেখ রাসেল দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। আমার আজকের নিবন্ধে শেখ রাসেল দিবস নিয়ে দারুন কিছু উক্তি এবং কবিতা তুলে ধরব।

শেখ রাসেলকে নিয়ে উক্তি

প্রাথমিকে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট্ট এক শহীদের নাম শেখ রাসেল। শেখ রাসেলের মৃত্যুতে ঝরে গিয়েছিল অসংখ্য নিভৃত স্বপ্ন। থেমে গিয়েছিল একটি চারা গাছের বেড়ে ওঠার প্রতীক্ষা। শেখ রাসেলের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে আপনাদের সুবিধার জন্য দারুন কিছু উক্তি তুলে ধরা হলো-

রাশেল হলো সবার সেরা
সবার নয়ন মনি।
রাসেলকে তাই দিব মোরা
ভালবাসার খনি।

ছোট্র রাসেল দোষ ছিলনা
মারল কেমন করে।
একটুও কি পাষাণ হৃদয়।
কাঁদলোনা তোর ওরে।

সবার ছোট রাসেল সোনা 
করত ছুটা ছুটি
নর পশু মারলো ওরে
শক্ত হাতে ধরে টুটি

ছোট্র সোনা জাদুর কাটি
সুখেই স্বর্গে থাকো
সবার ভালবাসা নিয়ে
ভালবাসার ছবি আঁকো।

তুমি ছিলে সবার কাছে 
অতি প্রিয় মুখ
তুমায় দেখে প্রণ জুড়াতো
পেতো সবাই সুখ।

শেখ রাসেলকে নিয়ে কবিতা

ঘাতকের নির্মমগুলির আঘাতে চটপটে দেহটি লুটিয়ে পড়েছিল নিমিষেই। স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে গিয়েছিল অল্প সময়ের মধ্যেই। শেখ রাসেলের স্বপ্ন পিপাসু দুটি মায়া ভরা চোখে নিমিষেই নেমে এসেছিল নিমগ্ন ঘুমের ঘোর। বঙ্গবন্ধুর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল যেদিন বঙ্গবন্ধুর ঘর আলো করে পৃথিবীর মাটিতে পা রাখল সেদিন সমগ্র বাংলাদেশে যেন এক আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। এই আনন্দের ধারাবাহিকতা স্মরণ রাখতে নানান কবি রচনা করে গেছেন নানান কবিতা। আপনাদের সামনে শেখ রাসেলকে নিয়ে রচিত দুটি ছোট কবিতা তুলে ধরলাম-

শুভ হোক তুমার জন্মদিন

                                     লেখক – সংগৃহীত

পাখির মত উড়ত সে যে
ফুলের মত হাসতো 
কবুতরের সঙ্গি হয়ে
খুসির দেশে ভাসত।
হঠাৎ করে একটি কালো
রাত্রি এলো নেমে
ঘাতক নিল জীবন কেড়ে
স্বপ্ন গেল থেমে।
পঁচাত্তুরের আগষ্ট মাসে
নেকড়ে গুলোর দল
ছিড়লো সোনার জীবন প্রদীপ
বন্দুকেরই নল।
সে খানেতে একটি
ছিল ছোট্র শিশু হায়
পরিবারের সবার সাথে
জীবন গেল তার।
বড় হয়ে সেই ছেলেটি 
দেশ কাঁপাতো ঠিক
তাকেও তারা মারলো যেন
হয়ে দিক বেদিক।
রাশেল নামের সেই ছেলেটি
স্বপ্ন বুকে বাঁচে
রাসেল আছে গান কবিতায়
লাল সবুজের মাঝে।

রাসেল পাখির জন্মদিনের কবিতা

            লিখেছেন কালের লিখন

আজ দিনটা অনেক খুশির মেঘ আদরে বূনা।
এমন দিনে জন্মেছিলো ছোট রাসেল সোনা
বাবার আদর মায়ের চুমু বুবুর ভালোবাসা
রাসেল ছিল স্বপ্নবালক সবার মনের আশা
পায়রা প্রেমে কাটতো সকাল-দুপুরে বল খেলা
বিকেলেতে লাল সাইকেল গড়িয়ে যেতে বেলা
সবার আদর সবার স্নেহ সবার ভালোবাসা
থাকতো ভরে উচ্ছ্বাসে ৩২ এর বাসা।
হঠাৎ একদিন মধ্যরাতে থমকে যায় সব
৩২ এর ছোট্র পাঁখি আর করে না রব।
এই বাংলার মাঠে ঘাটে স্কুলেতে রোজ
 আজও বুবুর দু-চোখ করে রাসেল সোনার খোঁজ
 স্বর্গ থেকেও রাসেল যেন বুবুর সাথে থাকে
 কচিঁ শিশুর হৃদয় জুড়ে স্বপ্ন ছবি আঁকে
রাসেলের পাখির জন্মদিনে গান কবিতার ভিড়ে
রাসেল থাকুক অমর হয়ে মনের গহীন নীরে।

অনেক ত্যাগ -তিতিক্ষা আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে যে পরিবারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি সেই পরিবারকেই একদিন নিস্তব্ধ ও নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পায়তারা করেছিল দুষ্ট চক্র। এই চক্রান্তের অন্যতম ও সর্বকনিষ্ঠ শহীদের নাম শেখ রাসেল। শেখ রাসেলের জন্মদিন অনুসারে প্রতিবছর ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। শেখ রাসেলের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আপনারা যারা দারুন কিছু উক্তি এবং কবিতার চরণ খুঁজছিলেন তাদের জন্যই আমরা আজকে নিবন্ধে শেখ রাসেলকে নিয়ে উক্তি ও কবিতা তুলে ধরেছি। আশা করি নিবন্ধটি থেকে আপনারা উপকৃত হবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে বিদায় নিচ্ছি। ভালো থাকবেন।

Md Jahidul Islam

আমি মোঃ জাহিদুল ইসলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগ হতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করে 2018 সাল থেকে সমাজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক,মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলোকন করে- জীবনকে পরিপূর্ণ আঙ্গিকে নতুন করে সাজানোর আশাবাদী। নতুনের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরস্থায়ী- তাই নবরুপ ওয়েবসাইটে নিয়মিত লেখালেখি করি।
Back to top button