টিপস

প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম

প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম এই নিবন্ধে আলোচনা করা হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন হয়। নতুন চাকরি কিংবা চাকরি পরিবর্তন করলে প্রত্যয়ন পত্রের দরকার পড়ে। বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে বা বিদ্যালয় থেকে কলেজে উত্তীর্ণ হতে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন পড়ে।

তাই এই নিবন্ধে আমরা বিভিন্ন প্রকার প্রত্যায়নপত্র নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। আপনি যদি প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম লিখে অনলাইনে অনুসন্ধান করে এই নিবন্ধে এসেছেন তাহলে আপনাকে স্বাগতম। এই নিবন্ধে আমরা বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত ফরমেট তুলে ধরেছে। এখান থেকে খুব সহজেই আপনার কাংখিত প্রত্যয়ন পত্র গুলো পেয়ে যাবেন। পুরো বিষয়টি ভালভাবে বোঝার জন্য আমাদের এই আর্টিকেলটি অনুশীলন করবেন।

প্রত্যয়ন পত্র কি?

প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম শেখার আগে আপনাকে প্রত্যয়ন পত্র কি সেটি জানতে হবে। প্রত্যায়ন পত্র হলো আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বা কর্মরত ছিলেন সেটির একটি ডকুমেন্ট যা আপনাকে ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদান করা হবে। এবং আপনি সেই প্রথম পত্র দিয়ে পরবর্তী স্টেপে উত্তীর্ণ হতে পারবেন।

প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম

সাধারণত একটি পত্রের ৬টি অংশ থাকে প্রত্যয়ন পত্র যেহেতু একটি পত্র তাই এরো ৬টি অংশ থাকবে। নিচে আমি প্রত্যয়ন পত্রের ছয়টি অংশ উল্লেখ করলাম।
প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন করার নিয়ম
আপনি যদি কোন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন তবে সে প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একটি প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন লিখতে পারেন। সাধারণ আবেদনপত্র লেখার নিয়ম এর মত প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট একখানা দরখাস্ত লিখবেন। তাহলে আপনাকে ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একখানা প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করবে।

  1. প্রত্যয়ন পত্র সর্বদা একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান,  ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রচলিত প্যাডে  প্রিন্টেড অথবা লিখিত হতে হবে।
  2. পত্রের শিরোনামে প্রত্যয়ন পত্র লিখাটি বিদ্যমান থাকতে হবে।
  3.  যে ব্যক্তির প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করা হবে তার নাম এবং পূর্ণ ঠিকানা পত্র উপস্থিত থাকবে।
  4. পত্রের মূল অংশ দুটি ভাগে বিভক্ত থাকবে যার মাধ্যমে পত্রের ভাব অর্থ প্রকাশিত হবে।
  5.  তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তির নাম এবং স্বাক্ষর থাকতে হবে
  6. প্রত্যয়ন প্রদানকারী ব্যক্তি , সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান  সিল থাকতে হবে।

স্কুলের প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন

আপনি যদি স্কুল পরিবর্তন করেন অথবা পঞ্চম শ্রেণী থেকে অন্য স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হতে চান সে ক্ষেত্রে পূর্বের স্কুল থেকে আপনাকে একটি প্রত্যয়ন পত্র গ্রহণ করতে হবে। সেই প্রত্যয়নপত্র তিনি পরবর্তী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিকট প্রদান করা সাপেক্ষে ওই স্কুলে ভর্তি হতে পারবেন। নিচে আমি প্রত্যয়ন পত্র একটি ফরমেট তুলে ধরলাম।

তারিখ:০৮.১৪,২০২১

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা হচ্ছে যে, নাম:(),পিতার নাম:(),মাতার নাম:() আমার্ বিদ্যালয়ের একজন আদর্শ ছাত্রী হিসেবে বিদ্যা অর্জন করেছেন। আমি তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করছি।

সাক্ষর:
সিলমোহরঃ

কলেজে প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন

আপনার কলেজের পাঠ সমাপ্ত করে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র গ্রহণ করতে হবে। কলেজ আপনাকে যে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করবে তার হুবুহুব নমুনা আমি এখানে একটি তুলে ধরেছি।

তারিখ:০৮.১৪.২০২১

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা হচ্ছে যে নাম:(),পিতার নাম:(),মাতার নাম:() আমার বিদ্যালয়ের একজন আদর্শ ছাত্রী হিসেবে আমাদের কলেজে বেশ কৃতিত্বের সাথে বিদ্যা অর্জন করেছেন এবং তার অর্জিত ফলাফল বেশ সন্তোষজনক। আমি তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করছি সেই সাথে আশাবাদ ব্যক্ত করছি নিজের পরিবারের এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করার।

সাক্ষর:
সিলমোহরঃ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন

আপনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ সমাপ্ত করবেন তখন চাকরির ক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য আপনাকে অবশ্যই একটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করবে। সেই প্রত্যায়ন পত্র দিয়ে আপনি যেকোনো ধরনের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র প্রদানের নমুনা কপি আমি এখানে তুলে ধরেছি।

তারিখ:০৮.১৪.২০২১

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা হচ্ছে যে ,নাম:(),পিতার নাম:(),মাতার নাম:() আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কৃতিত্বের সাথে তার স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন রয়েছে।

তার ভবিষ্যৎ জীবনে সাফল্য কামনা করছি পাশাপাশি আশাবাদ ব্যক্ত করছি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এর।
সাক্ষর:
সিলমোহরঃ

কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্রের আবেদন

আপনি যদি কোন কোম্পানিতে কর্মরত থাকেন এবং সেই কোম্পানিটি পরিবর্তন করে অন্য কোন কোম্পানি অথবা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পান তাহলে পূর্বের কোম্পানি থেকে আপনাকে অবশ্যই একটি প্রত্যয়ন পত্র গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান কোম্পানিটির প্রধান আপনাকে একটি প্রথম পত্র প্রদান করবে। নিচে আমি কোম্পানী কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র টি তুলে ধরেছে।

তারিখ:

এই মর্মে প্রত্যায়ন করা হচ্ছে যে ,নাম:(),পিতার নাম:(),মাতার নাম:() টিটেনি একজন নিষ্ঠাবান এবং দায়িত্ববাদ কর্মী হিসেবে আমার কোম্পানিতে  বেশ কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ভবিষ্যৎ যে কোম্পানিতে যাবেন সেই কোম্পানিতে  তার প্রতি অর্পিত সকল দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সম্পাদন করবে বলা ব্যক্ত করা যায়।

স্বাক্ষরঃ
সিলমোহরঃ

আমাদের জীবনে প্রচলিত নানা কাজে প্রয়োজন পড়ে একটি প্রত্যয়ন পত্রের।যার দ্বারা নির্ভর করে থাকে আমাদের জীবনের অনেক কিছু।তাই আশা করি আজকের আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।যার নমুনা কপি  আপনাকে ভবিষ্যৎ জীবনে প্রত্যয়ন পত্র লেখতে সাহায্য করবে।বিস্তারিত জানুন প্রত্যায়ন পত্র লেখার নিয়ম।

Md Jahidul Islam

আমি মোঃ জাহিদুল ইসলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগ হতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করে 2018 সাল থেকে সমাজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক,মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলোকন করে- জীবনকে পরিপূর্ণ আঙ্গিকে নতুন করে সাজানোর আশাবাদী। নতুনের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরস্থায়ী- তাই নবরুপ ওয়েবসাইটে নিয়মিত লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button